ফিলিস্তিন : সার্বভৌমত্ববিহীন এক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাস -০৯

আল-আমিন হুসাইন



Media Image
ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বসনিয়ার নারীদের সংহতি সমাবেশ ও বিক্ষোভ


২য় ইন্তিফাদার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। মিশর সীমান্তবর্তী গাজা ভূখণ্ডে শক্ত অবস্থানে চলে যায় হামাস। ২০০৬ সালের ফিলিস্তিনের জাতীয় নির্বাচনে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ফাতাহ জয়লাভ করলেও গাজা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ যায় হামাসের হাতে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে হামাস গাজায় সরকার গঠন করে। এতে ফিলিস্তিনের রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর কপালে চিন্তার রেখা উদ্ভাসিত হয়। 

 একটা প্রশ্ন আসতে পারে, হামাস কেন গাজা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে? ২০০৬ সালে নির্বাচনে হামাস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ফিলিস্তিনে। ফাতাহ হামাসের কাছে নির্বাচনে হেরে যায়। সংসদের ১৩২টি আসনের মধ্যে হামাস জয়লাভ করে ৭৪টি আসনে। ক্ষমতাসীন ফাতাহ পার্টি পায় মাত্র ৪৫টি আসন- যা ছিল তাদের জন্য শোচনীয় পরাজয়।

এতে ইসরায়েল নড়েচড়ে বসে। কারণ, হামাস ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং ২টি ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টার সাথে জড়িত। হামাসকে পশ্চিমা শক্তি সন্ত্রাসী সংগঠন  হিসেবে মনে করে। তাই ফিলিস্তিনের ক্ষমতায় হামাস থাকলে তা ইসরায়েলের জন্য অশনিসংকেত।

অপরদিকে ইয়াসির আরাফাতের দল ফাতাহ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তারা ২০০৭ সালে হামাসকে কোয়ালিশন সরকার গঠনের জন্য প্রস্তাব দেয়। সে পথেই হাঁটছিলো হামাস। কিন্তু ইসরায়েল ষড়যন্ত্র করে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দেয়। ফলে দু'পক্ষই সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এরপর কার্যত ফিলিস্তিনি শাসন দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ফাতাহর নিয়ন্ত্রণ এবং গাজার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হামাসের হাতে।   

ফাতাহ ইসরায়েলের একটি পুতুল সরকারে পরিণত হয়। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিনের কোনো সামরিক বাহিনী গঠনের অধিকার নেই। বরং সেখানে আধাসামরিক বিভিন্ন বাহিনী জননিরাপত্তার জন্য কাজ করবে। তাদের হালকা অস্ত্র ও  প্রশিক্ষণ দেবে ইসরায়েল। এসব বাহিনী মূলত ইসরায়েলের পেইড বাহিনী হিসেবে কাজ করে। ইসরায়েল বিরোধী নেতাদের ধরিয়ে দিতে তাদের জুড়ি মেলা ভার। ফলশ্রুতিতে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র বিভিন্ন গ্রুপ ও সংগঠনগুলো গাজায় তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সচেষ্ট হয়। নিজ দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ফাতাহ প্রশাসন ও তার বাহিনীগুলো মীরজাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

হামাস, ইসলামিক জিহাদসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত।  এসব সংগঠন অর্থায়ন ও অস্ত্র - প্রশিক্ষণ বিভিন্ন দেশ থেকে তারা পেয়ে থাকে। গাজার মাটির নিচে তারা সুদীর্ঘ টানেল নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছে যা তাদের সুরক্ষা কবচের কাজ করছে। 

চলবে ---

লেখক: প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি